ধারাবাহিক উপন্যাস – প্রতি বৃহস্পতিবার ।
পর্ব-- ৩৯
Once my
nose crawled like a snail on the glass;
My hand
tingled
To burst
the bubbles
Drifting
from the noses of the crowed,complained fish.
-"মুঝে শাদি
নেঁহি করনি--"এক মধুমাসে যখন হু হু হাওয়াদের ক্যারাভান জিয়া সরাই এর গলিতে
ও দাপটে কাবাডি খেলছিল, যখন আকাশে
ঘুমঘুম--বাতাসের ছোঁয়ায় মন কেমন
কেমন--তখন ববিতার সামনে ওর ভাবী--ডলি ভাবী
নিজের মোবাইল খুলে একটি নওজোয়ানের ছবি
দেখাচ্ছিল--"আরে আরে আমার ননদিনী
দেখো তো সহি! আরে বাবা,দুবাই তে নোকরি করে--"
ববিতা নিজের পায়ের নখে সবুজ
রঙের নখরঞ্জনী লাগাতে লাগাতে
বলল--"মুঝে শাদী নেঁহি করনি। মুঝে
নোকরি করনা হ্যাঁয়।"
--"নোখরঞ্জনী
কে ফুঁ দিয়ে শুকোতে শুকোতে ববিতার
ভিন্দাস জবাব--"হাঁ। নোকরি।"
--"তু দশবি
তক পড়া,ক্যায়া নোকরি করেগি?"
--"বিউটি
পার্লার মেঁ! ওহ মেরি সহেলী
প্রীতি হ্যাঁয় না? প্রীতি তো
বিউটি পার্লার মেঁ নোকরি করতি হ্যাঁয়--আচ্ছা কামাতি ভী হ্যাঁয়।"
--"ইসকে
লিয়ে তো কোর্স করনা পঢ়তা
হ্যাঁয়--"
ববিতা এবার পায়ে সেকেন্ড
কোটিং লাগাতে লাগাতে
বলল--"জরুরি নেঁহি হ্যাঁয়--কাম
করতে করতে হি লোগ শিখ যাঁতে।"
ডলি এবার দীর্ঘ শ্বাস
ফেলে বলল--"মুঝে লাগতি
হ্যাঁয় তেরে কো শাদী করনে হি
পঢ়েগি। আউর ইস লড়কেসে। ইয়ে দুবাই মেঁ কাম করতা হ্যাঁয়,আচ্ছা
কামাতা হ্যাঁয় আউর দেখনে মে ভী সহি
হ্যাঁয়।"
ববিতা ফোঁস করে জবাব
দিল--"মেরি অবতক ১৮ সাল নেঁহি হুয়া--মেঁ বালিক নেঁহি হু।"
এবার তেতো হেসে ডলি
বলল--"মেরা যব শাদী হুয়া থা মেঁভী ষোলো সাল কি থী।"
ববিতা কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে ধীরে ধীরে বলল--"ভাবি,হামারা
সাথ হি কিঁউ এয়সা হোতি হ্যাঁয়?"
ডলি এবার ও
তেতো হাসির সঙ্গে জবাব দিল--"কিঁউ কি হম গরীব হ্যাঁয়!"
ববিতা নখরঞ্জনীর শিশিতে
ঢাকনা পরাতে পরাতে জিজ্ঞেস করল
--"ভাবি,ক্যায়া
গরীব হোনা গুনাহ্ হ্যাঁয়?"
-"আন্টি--মেঁ
আপকো ভী পুঁছতি হুঁ--ক্যায়া গরীব
হোনা পাপ হ্যাঁয়?"
বাভ্রবি ল্যাপটপ বন্ধ
করে রাতের ব্যলকনির রেলিং ধরে একা। আকাশের বুকে একফালি চাঁদ।বাভ্রবি চাঁদের দিকে করুণ চোখে তাকিয়ে--"ও চাঁদ বলো দেখি আমায়,গরীব হওয়া কি অপরাধ?"
চাঁদ তেমনই
করুণ চোখে তাকিয়ে -হাল্কা মেঘ
সাঁতরে বেরিয়ে এলো।
--"এভাবেই--এভাবেই প্রতিস্রোতে
সাঁতার কাটো--"
কোনও ওজর আপত্তি টিঁকলনা। ববিতার শাদী হয়ে গেলো উত্তর প্রদেশ-এর নিবাসী,দুবাই এ
শ্রমিকের চাকরিরত রতন প্রসাদ এর সঙ্গে। না
রতন প্রসাদ আর ববিতার চাক্ষুষ দেখা শাদীর আগে হয় নি। শাদীর পর পুরা রসম শেষে একগলা ঘুঙ্গট টেনে ববিতার সাথে যখন রতন প্রসাদ এর, মিলন হলো
--তখন--
-"তখন?"
তখন চাঁদ হয়ত উঠেছিল সিন্ধুপারে--;কিন্তু ববিতার
সেই চাঁদের কিরণ মাখা হয়নি। ইয়ার বন্ধুদের সঙ্গে আকণ্ঠ
মদ্যপান করে যথারীতি সুহাগ রাত
মানিয়ে -মানে ববিতার শরীরের উপর দখলদারি শেষ করে নিবিড় ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল রতন প্রসাদ।
ববিতার পায়ে বেড়ি পরা জীবনের রোজনামচা শুরু হলো--ভোর ভোর মুরগী ডাকা
ভোর-তিনটি বাড়ি মিলিয়ে একটি
শৌচালয়--রাত থাকতে মহিলাদের লাইন। ববিতার শাসু মা গর্ব
সহকারে বলেন--"হাঁ--হমারা ঘরমেঁ তো শৌচালয় হ্যাঁয়! দুসরো কে তরা
ক্ষেত মেঁ নেঁহি যানা পঢ়তা--হাঁয়!"
এই টুকু বলে ববিতা হঠাৎই
একদম চুপ হয়ে গেল।
গায়ের সাদা কাপড়টা টেনে
শুয়ে পড়ল।
--"থক গিয়া
বেটা।?"
বাভ্রবি খুব মৃদু গলায়
জিজ্ঞেস করল--
"বাভ্রবির দিকে তাকিয়ে ফিকে হাসল ববিতা।
--"নেঁহি আন্টি। ইয়ে এক কাহানী মেঁ আউর এক কাহানী জুড়ে
হুয়ে হ্যাঁয়--"
--আচ্ছা! ভেরি
ইন্টারেস্টিং!"
--"ইয়ে
শৌচালয় কি কাহানী। হিন্দুস্থান এক
আজীব দেশ --হ্যাঁয় না আন্টি? ইহা
শৌচালয় লেকে ভী কাহানী বন যাতে হ্যাঁয়।"
সেই কাহানী খুঁজতে খুঁজতে বাভ্রবি কপালের ঘাম মোছে--
ক্রমশ …………
৪০ তম পর্ব পড়ুন আগামী বৃহস্পতিবার
লেখিকার অন্যান্য লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন ।
লেখিকার পরিচিতি
–
জন্ম-কলকাতায় । আসামের বরাক উপত্যকায় বড় হয়ে ওঠা ।
প্রকাশিত
গ্রন্থ
১--সাপ শিশির
খায় (গল্প গ্রন্থ)
২--দেবী দহন--(কবিতা গ্রন্থ)
ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ।